মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

অধিপত্য বিস্তারের জেরে পানছড়ি বাজার অচলবস্থা

অধিপত্য বিস্তারের জেরে পানছড়ি বাজার অচলবস্থা

অংগ্য মারমা,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
খাগাড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন ও বড় পানছড়ি বাজার।ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর দু’টি অংশের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে গত ২৮দিন ধরে অচল।বাজারে সাধারণ আদিবাসীদের আসতে বাঁধা দেওয়ার ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা ।

সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা জানান , গত ২০মে থেকে বাজার বর্জন কর্মসুচির নামে সাধারণ আদিবাসীদের বাজারে আসতে দেওয়া হচ্ছেনা। ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুফের) নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের চলমান ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে অচল হয়ে পড়েছে শত বছরের পুরাতন এই বাজার। বিষয়টি সমাধানে একাধিক সভা হলেও আসেনি কোন সুফল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আদিবাসী ক্রেতা বলেন জমিনে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করে পরিবার চলে, সন্তানের লেখাপড়া চলে, চিকিৎসা চলে-বাজার বর্জনের কারণে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যারা বাজার বর্জনের ডাক দিয়েছেন, তারা নিজেদের স্বার্থেই ডাক দিয়েছেন । দ্রুত বাজার চালুর দাবী জানান তিনি।

ইউপিডিএফ (প্রসিত) সমর্থিত পানছড়ি বাজার বর্জন কমিটির সভাপতি সুশান্ত চাকমা অভিযোগ করে বলেন ,ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছে । প্রশাসন তথাকতিথ ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) অংশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে মূল ইউপিডিএফের বিরূদ্ধে অপহরণ, খুন ও গুমে ব্যবহার করছে। প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরণের কারণে পাহাড়ি জনসাধারণ নিজ থেকে পানছড়ি বাজার বয়কট করছে। পানছড়ি বাজার সন্ত্রাসীমুক্ত ও নিরাপদ হলেই বাজারে যাবে পাহাড়ি জনসাধারণ।

পানছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হেদায়েত তালুকদার বলেন, ইউপিডিএফের দু’টি অংশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কারণে পানছড়ি বাজারের এই অচলাবস্থা। প্রত্যন্তঞ্চলের সাধারণ আদিবাসীরা ভয়ে বাজারে না আসায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাহাড়ে উৎপাদিত চলমান সময়ের ফলমূল ও ফসলাদি বাজারে ক্রয় বিক্রয় করতে না পারায় পানছড়ি বাজারে অচলাবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। লাগাতার বাজার বর্জনের প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান না হওয়ার জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন তিনি।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাশেম বলেন, প্রশাসনের কোন ব্যর্থতা নেই। একটি অমূলক, ভ্রান্ত ও ত্রুটিযুক্ত ধারনার উপর শতবছরের পুরাতন বাজার বর্জন করার জন্য সাধারণ লোকজনকে বাঁধা দান হীনমন্যতার আরেকটি রূপ। বাজার বর্জনের ফলে শুধু বাঙ্গালী লোকজন নয়, পাহাড়িরাও ক্ষতিস্থ হচ্ছে। তিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনের সাথে একাধিকবার বসেছেন এবং কথা বলেছেন। সকলের অংশগ্রহণে দ্রুত পানছড়ি বাজারের অচলাবস্থা দূর হবে বলে আশা করেন তিনি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology