রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার সুয়ালক খালে পরিবেশ ধ্বংস করে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর মেম্বার গং এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

বছরের শীতের সময় আসলেই বান্দরবানের অভ্যন্তরে ঢুকে এভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করে তারা। এবারও একমাস ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে ব্যবসা করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ করে অবৈধ বালুর ব্যবসা, কাঠ পাচার, পাশাপাশি জুয়ার আড্ডাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সুয়ালক ১নম্বর ওয়ার্ড এর সুলতানপুর বাজারের পাশে সুয়ালক খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়ায় পাচার করছে বাজালিয়ার ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর, স্থানীয় বালুর চরের মালিক মো. জাহাঙ্গির, বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দোয়ারার মো. হাফেজ ও সুলতান পুরের রবিউল হোসেন নামে চক্রটি।

স্থানীয় আব্দুস সাত্তার, মো. জসিম ও মোঃ মফিজ অভিযোগ করে বলেন, সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউপি সদস্য হলেও সে পার্বত্য জেলায় প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কায়দায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এই বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের নবনির্মিত দুই লাইনের সেতুটি ভবিষ্যতে ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজালিয়ার ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর মুঠোফোনে বলেন, আমরা অবৈধভাবে বালু তুলছি না। প্রশাসনের গোয়েন্দা ডিবিসহ সবাইকে ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করছি। এলাকাটি ওই পারে বান্দরবান হলেও এপারে আমাদের সাতকানিয়া।

এদিকে প্রশাসনসহ গোয়েন্দা ডিবি পুলিশকে ম্যানেজ করার বিষয়টি জানতে চাইলে  প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানান, ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর এর অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তার মন গড়া কথা। আমাদের গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের একটা সুনাম রয়েছে। সুনামটি নষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে এ ধরনের মস্তব্য করেছে। তার সাথে ডিবি পুলিশের কোন রকম যোগাযোগ হয়নি। আমরা অতিস্বত্ত্বর এ বিষয়টি তদন্ত করবো।

২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদ-নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology