বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

উখিয়ায় ইয়াবা গডফাদাররা বহাল তবিয়তে

উখিয়ায় ইয়াবা গডফাদাররা বহাল তবিয়তে

উখিয়া সংবাদদাতাঃ

সারাদেশ ব্যাপী ইয়াবা ও মাদক বিরুধী অভিযান জোরদার করা হলেও উখিয়ায় তার আঁচড় লাগেনি। এমনি পাশ্ববর্তী টেকনাফ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে প্রশাসনের সাথে বন্দুক যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৫জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়াও হাতে প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অথচ উখিয়ার চিহ্নিত শতাধিক ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় দেদারচে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেলেও প্রশাসন কোন খবর নেই।

জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার মাদক-বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে র‌্যাবসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৮ সালের মে মাস থেকে দেশজুড়ে মাদক-বিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের মতো মাদক ব্যবসায়ীকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। টানা অভিযানের ফলে মাদক চোরাচালান ও বিক্রি অনেকটা কমে গেলেও গডফাদাররা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এবার মাদক সাম্রাজ্যের শীর্ষ গডফাদারদের টার্গেট করে অভিযানে আসছে র‌্যাব। পাশাপাশি ইয়াবার প্রবেশদ্বার খ্যাত জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাবে র‌্যাবের ১৫তম নতুন ব্যাটালিয়ন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাদক-বিরোধী অভিযান কিছুটা ভাটা পড়লেও আবারও জোরদার হচ্ছে এই অভিযান। গত ২ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক-বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর প্রশাসন আবারও নড়েচড়ে বসেছে। অন্যদিকে বেশির ভাগ নির্বাচিত সংসদ সদস্যেরা নির্বাচনের আগে নিজ এলাকাকে মাদক মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, গত এক বছরের মাদক-বিরোধী অভিযানে এক লাখ ১৫ হাজার মামলায় প্রায় দেড় লাখ মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১১ মাসে সারা দেশ থেকে তিন কোটি ৪৯ লাখ এক হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে র‌্যাব, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ডসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাদক-বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সারা দেশে তিন শতাধিক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। সরকারের মাদক-বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু নিহতের মধ্যে উখিয়ার কোন উল্লেখ্যযোগ্য গডফাদার না থাকায় অনেকটা নির্ভয়ে চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। উখিয়ার এই সিন্ডিকেটের প্রধান হচ্ছে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা জিয়াবুল হক। সে ক্যাম্পের ভিতরে কুতুপালং এলাকার জানে আলম জানু নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। জিয়াবুল রোহিঙ্গা হওয়ার সুবাধে মিয়ানমারে রাখাইন সম্প্রদায়ের সাথে রয়েছে সখ্যতা। এসব রাখাইন লোকজনকে দিয়ে সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার পাশ্বে নিয়ে এসে সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের দিয়ে ক্যাম্পে আসে ইয়াবা চালান। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে রোহিঙ্গা যুবতীদের দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে জিয়াবুল। এসব পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তবে এদিকে জানা গেছে, ইতোমধ্যে একনেক কর্তৃক র‌্যাবের ১৫তম ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাটালিয়ন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মাঠে নামার লক্ষ্য নিয়ে অফিস, নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ অন্যান্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে , র‌্যাবের এ ব্যাটালিয়ন ইয়াবার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের মধ্য দিয়ে মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায়। এ জন্য ইয়াবার প্রবেশদ্বার খ্যাত জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে উখিয়া,টেকনাফকে মাদক রুটগুলো মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে র‌্যাব। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় বিশেষ মাদক-বিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে নতুন এ ব্যাটালিয়ন।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে পুলিশের অবস্থান সব সময়ই জিরো টলারেন্স। আমরা প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। মাদক নির্মূলের লক্ষে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে মাদক-বিরোধী নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। নতুন এ আইনে ইয়াবা পাচার মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিসার মতো মাদকদ্রব্য। নতুন আইনের ফলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology