রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আর থাকবে না থানচিতে পাথর, শুকিয়ে গেছে পানি কেশবপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ থানচি নদীতে ডুবে শিশু মৃত্যু থানচিতে প্রধানমন্ত্রী উপহার আর্থিক সহায়তা প্রদান লামায় গ্রামার স্কুলে বঙ্গবন্ধু বুক কর্ণার ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নারের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী’র বিশেষ উপহার পেল লামার ৩হাজার ৬শত পরিবার  বান্দরবানে সুয়ালকে রাবার ড্যাম প্রকল্পে অনিয়মে বাধা দেয়ায় শ্রমিক ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ৯ মানছেনা প্রশাসনের জরিমানা ! অবিরাম চলছে আবাদি জমি ও পাহাড় কাটা ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ এক জনকে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি পুলিশ আলীকদমে ২’শ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সহায়তা
থানচিতে কর্মহীন মানুষের সরকারী ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

থানচিতে কর্মহীন মানুষের সরকারী ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

র‌্যামবো ত্রিপুরা,থানচি প্রতিনিধিঃ
প্রাধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে করোনাভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পরা হতদরিদ্র পরিবার সমূহকে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারী খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়া ত্রাণ সমগ্রী থানচি উপজেলায় পৌছলেও হয়তং পাড়া, সাখই কমান্ডার পাড়া ও কমলা বাগান ত্রিপুরা পাড়ায় এখনো ত্রাণ সামগ্রী পৌছায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

থানচি বলিপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হয়তং পাড়া কারবারী লুফ্রা খুমী(৬০) তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন পাড়ায় ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কথা শুনলেও বাস্তবে আমরা এখনো কোন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। আমরা কেমন আছি? কিভাবে আছি কোন জনপ্রতিনিধি আমাদের খোঁজ-খবর পর্যন্ত নেয়নি। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাব কিনা তাও কিছুয় জানিনা।

পাড়াবাসী নাহই খুমী (৩২) বলেন, আমাদের পাড়ায় ২০ পরিবার রয়েছে। বন্ধ ঘোষণার পর থেকে রুজি রোজগার নেয়, ঘরে বসে আছি। সবাই গরীব অসহায় খেতে খাওয়া মানুষ। আমাদের পাড়ায় সরকারের কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলে আমরা খুব উপকৃত হয়।

একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাখই কমান্ডার পাড়া অংলে ম্রো (৪৬) তিনি বলেন, আজ ১০ দিন ধরে ঘরের মধ্যে লকডাউনে কাজকর্ম ছাড়া দিন চলছে, কাজের মানুষ কাজ না থাকলে খাব কি, অনেক কষ্টের আছি, সরকারী পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের কথা শুনেছি। ৩৬টি পরিবার থানচির সড়কে পার্শ্ববর্তী হয়েও কোন ধরণের সরকারী ত্রাণ সামগ্রী পায়নি।

একই পাড়ার ৭২ বৎসরের বৃদ্ধ মেংয়াং ম্রো বলেন, করোনা ভাইরাসের আমরা কিভাবে মরব জানিনা, এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে আগেই মরতে হবে।

থানচি বলিপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কমলা বাগান ত্রিপুরা পাড়া সতিরাং ত্রিপুরা (৭০) বলেন, আমি দিন মজুর করে চলি, আমার প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও ১ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সংসার চলে। এখন কাজকর্ম নায় খাওয়া-দাওয়া নাই বলায় চলে। প্রতিবেশিদের কাছে ধার নিয়ে আর কতদিন চলব। করোনা কি আমি বিশেষ কিছু জানিনা, সরকারী ভাবে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া না হলে করোনা আসার আগেই আমার পরিবার আগেয় ভাতে মরে যাবে।

একই পাড়া ফিলিপ ত্রিপুরা(৪০) বলেন, এখন কাজকর্ম নেই ধার নিয়ে চলছি, আর কতদিন চলবে এভাবে। এখনো পর্যন্ত সরকারী বেসরকারী ভাবে আমরা কোন ধরণের ত্রাণ পায়নি, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের প্রতি আমাদের আবেদন যে অতিসত্বর সরকারী ত্রাণ এই অসহায়দের মাঝে পৌঁছে দেয়া হক।

ত্রাণ বিষয়ের খোজ নিয়ে জানা যায়, ইতিপূর্বে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে ৫.০০ মেঃ টন চাউল ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ফাউন্ডেশন হতে নগদ ৫০ হাজার টাকা সহ অন্যান্য সামগ্রী ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ১৪.৪০ মেঃ টন চাউল সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী এই উপজেলায় প্রদান করা হয়েছে।

এই বিষয়ে বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, জেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ত্রাণ আজ ১ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ১০০ জন কে বিতরণের কাজ শুরু করেছি। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে।

ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরিফুল হক মৃদুল সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, মূলত ত্রাণ সবার জন্য নয়, শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতির কারনে কর্মহীন হয়েছেন তাদের জন্য বিশেষ করে যে মানুষ কর্মহীন দিন মজুর। এখন উপজেলা প্রশাসন পাশা পাশি ইউনিয়ন পরিষদকেও ত্রাণ বিতরণের ভার দেয়া হয়েছে। এখন বান্দরবান জেলা পরিষদের ত্রাণ বিতরণ চলছে। স্থানীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যোগাযোগ করলে ত্রাণ অসহায় দেয়া হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology