শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাম চাষ করে ভাগ্য বদল হয়নি, এখন বিপাকে চাষীরা!

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাম চাষ করে ভাগ্য বদল হয়নি, এখন বিপাকে চাষীরা!

আবদুর রশিদ,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধিঃ
বৃষ্টিপ্রবন এলাকা পার্বত্য বান্দরবান । এ জেলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি। এই জমিতে পাম চাষ করে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনার গল্প শোনানো হয়েছিল উদ্যোক্তাদের। তখন অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন পাম অয়েল গাছের   বাগান করতে।
কেউ কেউ শুরুও করেছিলেন পাম বাগান। শুধুমাত্র সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পাম তেল প্রক্রিয়া করণের অভাবে পাম চাষ  শিল্পে রূপ পায়নি। উল্টো হতাশ হয়ে পড়ে  উদ্যোক্তারা। এমনই একজন উদ্যোক্তা হল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের  ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব হেড়ম্যান পাড়ার মৃত্যু মনছুর আলীর পুত্র কৃষক  নাজের হোসাইন।
তিনি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন,  ২০১১ সালে ৮ একর পাহাড়ি  জমির উপর  লাগিয়েছিলাম ৩২০টি পাম গাছের চারা। প্রতিটি চারার দাম পড়ে ৩০০ শত টাকা।  ১১ বছর পরিচর্যা করে এক টাকাও আয় হয়নি। বরং, পরিচর্যা করতে গিয়ে আমার লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘরের গরু, নিজের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পাম চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখায় কৃষি বিভাগ ও কিছু কোম্পানি। তাদের প্রলোভনে আমিসহ নাইক্ষ্যংছড়ির অনেকে পাম চাষে পা বাড়াই। একটি কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিটি চারা  ৩ শত  টাকা দামে  ক্রয় করেন।   ১৬ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছে  ফল ধরেছিল,।  কিন্তু তেল প্রক্রিয়াজাত মেশিন না থাকায় কিছুই  করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে পঁচে নষ্ট হয়েছে ফলগুলো।
 এখনো শোনাচ্ছেন সম্ভাবনার গল্প। তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব, ও অসহযোগিতার জন্য এই সম্ভাবনাময় পাম চাষ শিল্পে রূপ নেয়নি। যদি সরকারের সহযোগিতা পেত তাহলে হয়ত আশার আলো দেখতাম।
পাম গাছ গুলোতে এখন ফল ধরছে। কিন্তু এটা প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনা থাকলেও আমি পাম ওয়েল গাছের   ফলগুলো কোনো কাজে লাগাতে পারছি না।’
ইউপি সদস্য জাফর আলম বাংগালী বলেন, তেল উৎপাদনে যেতে হলে প্রক্রিয়াকরণ মেশিন  দরকার পাম চাষের সম্ভাবনা, প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। বিনিয়োগের আগে ব্যবসায়ীরা আদৌ লাভোবান হবেন নাকি ক্ষতির মুখে পড়বেন তা যাচাই বাছাই করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার  উপজেলা রাজস্ব খাত নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যলয়ে  প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জেলায় তেলের চাহিদা মেটানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে  এক জরুরি সভার  আয়োজন করা হয়। এ সভায় উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার  সামশুদ্দিন মোঃ রেজা, মৌজা হেডম্যান, চেয়ারম্যান সহ উপজেলা সার্ভেয়ার ওয়াহিদুল্লাহ পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানোর লক্ষে প্রতিটি মৌজায় ৫ একর ভুমিতে সরিষা, পাম ওয়েল  ও আখ চাষের উপর পর্যালোচনা সহ বর্তমান সৃজিত নাজের হোছেনের পাম বাগান নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস বলেন, একটি পরিবারের জন্য দুটি পামঅয়েল গাছই যথেষ্ট বিশ্বে তেল উৎপাদনে পামঅয়েল গাছ অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই গাছ যদি আমাদের দেশে পাহাড়ি পতিত ভূমিতে এবং সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সারাদেশে লাগানো যায় তবে ৫-৭ বছরের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠিতে পরিণত করা সম্ভব।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ নভেম্বর নাজের হোসেনের পাম বাগান সরজমিন এ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি সার্ভেয়ার ওয়াহিদুল্লাহ পারভেজ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology