শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপে চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষিরা

নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপে চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষিরা

আবদুর রশিদ , নাইক্ষংছড়ি প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ে ও সমাতলে পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী  হওয়ার মুখ দেখেছেন  পেঁপে চাষিরা। বাজারে পেঁপের ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায়  চাষিরা খুশি। এছাড়াও অল্প খরচে পেঁপের অধিক ফলন ও দামে বিক্রি করতে পারায় দিন দিন পেঁপের চাষ বাড়ছে।
চাষিরা জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পেঁপের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁপে বিক্রি করে লাভও বেড়েছে কয়েকগুণ। ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে বেশ জনপ্রিয়। পেঁপের সারা বছরই চাহিদা থাকে। আগে পেঁপে বাড়ির আঙিনায় চাষ হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। প্রতি মণ সময় ভেদে ৬’শ থেকে প্রায় ১৪’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।  এই পেপেঁ । চাষিরা পেঁপে বিক্রি করে সংসারের চাহিদা মিটিয়ে টাকা জমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে ও জানান।
সরেজমিন দেখা যায় যে, উপজেলার সদর ইউনিয়ন, সোনাইছড়ি, ঘুমধম, দৌছড়ি ও বাইশারীতে  পেঁপে চাষে  করে  অনেকে সফল হয়েছেন। এছাড়াও আরো বিভিন্ন উপজেলার চাষিরা পেঁপে চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন।
পেঁপে  চাষি অংক্যাজাই মার্মা জানান,  রেডলিপ, শাহী, কাশ্মিরি, টপলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী।
লামার পাড়া মংচানু মার্মা  বলেন, আমি ২ একর  একর জমিতে  পেঁপের চাষ করছি। প্রতিটি গাছেই পেঁপের ফলন এসেছে। প্রতিটা পেঁপে গাছে প্রায় ৫-৭ মণ পেঁপে ধরে। আমার বাগানে শাহী, কাশ্মিরি, টপ লেডি জাতের ৯ শতাধিক পূর্ণবয়স্ক পেঁপে গাছ রয়েছে। বাগান থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ কেজি ওজনের পেঁপে সংগ্রহ করছি। এবছর আরো ৫’শ মণ পেঁপে বিক্রি করতে পারবো।তিনি আরো বলেন, আমি নিজে বাগান করার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় ফ্রি পেঁপে চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।  আগামীতে আরো বেশি জমিতে পেঁপের চাষ করবো।
পার্শ্ববর্তী  রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের পেপে চাষী জসিম উদ্দিন বলেন, ২ একর জমি ২৫ হাজার টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য লীজ নিয়ে গত ৮  মাস আগে ২০০০ চারা রুপন করেছেন।  এখন ফল ও ফুলে ভরপুর। চারা লাগিয়েছেন হাই ব্রিড রেড লেডি জাতের। খরচ হয়েছে ৫ লাখ টাকার মতন। বর্তমানে দেড় লাখ টাকার পেপে বিক্রি করছেন।  আশা করছি খরচ পুষিয়ে  তার ৪ লাখ টাকা আয় হতে পারে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা  বলেন, এই উপজেলায়  অনেকগুলো পেঁপের বাগান রয়েছে। চাষিরা বাগানে খুব পরিশ্রম করছেন। চাষীদেরকে আমরা বিভিন্নভাবে পরার্মশ দিয়ে সহযোগিতা করছি।
উপজেলা  কৃষি অফিসার এনামুল হক  বলেন, বর্তমানে ধান চাষে খরচ বেশি হওয়ায় চাষিরা বিভিন্ন সবজি, ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের পড়ে  থাকা পতিত জমিগুলো ও পাহাড়ের ঢালুতে পেঁপের চাষ করে চমক দেখাচ্ছেন চাষিরা। বর্তমানে চাষিরা ডলিপ, শাহী, কাশ্মিরি, টপলেডি জাতের পেঁপে চাষে অনেক সফল হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা পেঁপে চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করছি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology