বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:০৮ অপরাহ্ন

বলিপাড়া স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র প্রাচীর নির্মাণে সেই ঠিকাদার সেই ইঞ্জিনিয়ার

বলিপাড়া স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র প্রাচীর নির্মাণে সেই ঠিকাদার সেই ইঞ্জিনিয়ার

থানচি প্রতিনিধিঃ
বলিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রাচীর নির্মাণের নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় মোঃ আরিফ তিনি সিমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদার এবং ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলে আমরা সেভাবে কাজ করছি। এমনতায় জানিয়েছে নির্মাণ শ্রমিক ও সাইট মাঝি মোঃ সাজু।

পুরোনো ব্যবহৃত ইট, কংক্রিট ও ময়লা অবর্জনা মিশ্রিত বালি দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে । দেশের মানুষ যখন করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে বিরাজ করছে ঠিক তখনি বান্দরবানের থানচি উপজেলা বলিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে, এইযেন দেখার কেউই নেই।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যৌথ অর্থায়নের থানচি উপজেলা বলিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর প্রায় ১ হাজার ৫ শত বর্গফুট নির্ম্মাণ কাজ করেছেন। ঠিকাদার মোঃ আরিফ তিনিই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার এবং ঠিকাদারী সংস্থা মালিক বলে জানা যায়। তার নিকট হতে সম্পূর্ণ কাজের বাস্তবায়নের চুক্তিতে উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজ নিয়েছেন মোঃ সাজু সাইট মাঝি।

সরেজমিনে ২১ মার্চ শনিবার দুপুরে প্রাচীর নির্ম্মাণ কাজ দেখতে গেলে প্রায় অধিকাংশ কাজ গত ২৬ দিনের মধ্যে করে ফেলেছে বলে মিস্ত্রী নূর হোসেন (৩৫) জানান। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফ স্যার যেভাবে কাজ করতে বলেছে সেভাবে কাজ সম্পাদন করেছি ।

প্রাচীর নির্ম্মাণের প্রত্যক্ষদর্শী ও বলিপাড়া বাসিন্দা ওয়ইনুমং মারমা (৪৫) বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। এই প্রাচীর নির্মাণে কারীরা নিন্মমাণের ইট ব্যবহার তো করেছেই অর্ধেক মাটিযুক্ত ঝিড়ি বালি দিয়ে সিমেন্ট মিশ্রণ করে কাজ সেরে ফেলছে। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারনে গেল বরিবার সকালে প্রাচীর কিছু অংশ ধ্বসে পড়েও গেছে, আমরা বললেও আমলে আনা হয়না।

স্থানীয় বাসিন্দা নেপাল কর্মকার বলেন, মিস্ত্রিরা ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষমতা আমাদের বর্ণনা করে শুনানো হয়েছে। এই রাস্তায় আমি দিনে অতন্ত ২/৩ বার হাঁটা চলা করি, প্রাচীর নির্ম্মাণের নি¤œমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার আমি নিজের চোখে অনিয়ম হওয়া দেখেছি। অনিয়ম দেখার সাথে সাথে এই কেন্দ্রে ডাক্তার কেও জানিয়েছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কল্যাণ কেন্দ্রে উপ-সহাকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মিথোয়াইনচিং মারমা তিনি এই প্রতিবেদকদের জানান, নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে গত ১৮ মার্চ উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার(এম,সি,এইচ,এফ,সি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। আমার অভিযোগটি আমলে নিয়ে তিনি আমাকে লিখিত নাহলেও মৌখিক ভাবে আশাস দিয়েছেন যে, কেন্দ্রের সামনে প্রাচীর সবগুলো ও দক্ষিণ সাইডে কিছু অংশ ভেঙ্গে দিয়ে আবার নতুন ইট ও ঝংকার বালি দিয়ে নির্ম্মাণ করে দেওয়া হবে এমন আশাস পেয়েছি।

তারপর থানচি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনাদির রঞ্জন বড়–য়া সাংবাদিকদের বলেন, সীমানা নির্ধারনে জন্য আমি গত ১০ বছর দরে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যাচ্ছি এখনও সীমানা নির্ধারন হয়নি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে পরিমান জমি রয়েছে তা উদ্ধার করার জরুরী । ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা বেদখল করে রেখেছে। আর সীমানা প্রাচীর নির্ম্মাণ কাজের শ্রমিকরা আমার সামনে পুরোনো ইট, রড, সিমেন্ট, মাটি মিশ্রিত বালি, পানি কিউরিং ব্যবস্থা ছাড়াই যা ইচ্ছেই তাই করছে, আমি বাস্তবায়ন কাজের সন্তোষজনক নয় ।

পরে  ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সাইট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফ কে কাজের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কিছইু জানিনা, আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সব কিছু জানেন, আমি সামান্য চাকুরী কর্মচারী। উপরে নির্দ্দেশনা মতে আমি কাজ করছি, এর বাইরে আমার আর করার কিছুই নেই বলে ফোন বন্ধ করে দেন।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology