সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

বান্দরবান কালাঘাটায় অবরুদ্ধ ৪ জেলে পরিবার

বান্দরবান কালাঘাটায় অবরুদ্ধ ৪ জেলে পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদনঃ
বান্দরবান শহর পৌর এলাকায় কালাঘাটা দক্ষিণ জেলে পাড়া বাসিন্দা ৪ পরিবারকে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় এখন তারা অবরুদ্ধ । পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক খোরশেদ এমনভাবে বাড়ি ঘেসে উচু সীমানা দেওয়াল দিয়েছে যেন জেল খানা কয়দিদের রাখারমত, সেই সাথে কাটা তারও। সীমানা দেয়াল দিলেও একপাশে দেয়া হয়েছে অন্য পাশগুলোর কোন সীমানা দেয়াল দেয়া হয়নি। রাস্তাটি বন্ধ করায় এখন নদীর চর হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এই ৪ পরিবারকে।

গত সোমবারে সরজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ কালাঘাটা জেলে পাড়া প্রায় ৯-১০টি পরিবার বসবাস করছে। দীর্ঘ দিন ধরে খালি জায়গা দিয়ে চলাচল করত এই ৪টি পরিবার। হঠাৎ করে জায়গার মালিক খোরশেদ ও ফরিদ তাদের বাড়ির ঘেসে আড়াআড়িভাবে সীমানা দেওয়াল তুলে দেয়ায় রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়। পাশে থাকা রাস্তাটিও ব্যবহার করতে পারছে না। ব্যবহার করতে গেলে পাশে থাকা পরিবাররা নিজেদের জায়গা দিয়ে না যেতে নিষেধ করে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ৪টি পরিবারের ছেলে মেয়েরা স্কুলে আসা যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতের জন্য নদীর চর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন তারা বেকায়দায় পড়েছে।

অবরুদ্ধ একটি পরিবারের সদস্য কালা মোহন জল দাস জানান, আমরা সবাই খেতে খাওয়া মানুষ। দৈনন্দিন রুজি রোজগার করে যা পায় তাই দিয়ে সংসার চলে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই জায়গা দিয়ে চলাচল করে আসছি। তারা হঠাৎ করে এভাবে দেয়াল তুলে দেওয়ায় আমরা এখন অবরুদ্ধ। রাস্তার জন্য একহাত জায়গা দিতে আমরা বার বার খোরশেদকে অনুরোধ করেছি।

অবরুদ্ধ পরিবারের আরেক সদস্য বিন্দু জল দাস বলেন, অন্য পাশগুলো খোলা রেখে, দেয়াল দেয়া হয়েছে আমাদের বাড়ির ঘেসে। পাশে যে রাস্তা রয়েছে সেই রাস্তাতেও যেতে দিচ্ছে না। আমরা এখন জেল খানার মত বন্দি হয়ে গেছি। বর্ষা মৌসুমে আমরা কিভাবে চলাচল করবো? আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি আমরা স্বাভাবিকভাবে যেন চলাচল করতে পারি।

মুঠো ফোনে খোরশেদ জানান, আমার জায়গায় আমি বাউন্ডারি ওয়াল করেছি। তাদের হাটার জন্য আমি সারাজীবন খালি জায়গা রাখবো নাকি? এদের জন্য পৌরসভা রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। কমিশনার রাস্তা ঠিক করে দিয়েছে। রাস্তা বন্ধ আমরা করেনি, পাশের লোকেরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।

কালাঘাটা ওয়ার্ড কমিশনার অজিত দাশ জানান, যে ৯ পরিবারের জায়গা আছে তারা তাদের জায়গা এখনো ভাগাভাগি করেনি। যে যার মত করে ঘর বাঁধার কারনে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারা রাস্তার জন্য জায়গা না দিলে রাস্তা কিভাবে করবো। এত দিন খোরশেদের জায়গা খোলা ছিল, সেখান থেকে চলাচল করত।
এরা আমার কাছে এই বিষয়ে জানিয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি তোমাদের জায়গা ভাগ করে ফেল রাস্তার ব্যবস্থা করে দিব।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology