রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
আর থাকবে না থানচিতে পাথর, শুকিয়ে গেছে পানি কেশবপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ থানচি নদীতে ডুবে শিশু মৃত্যু থানচিতে প্রধানমন্ত্রী উপহার আর্থিক সহায়তা প্রদান লামায় গ্রামার স্কুলে বঙ্গবন্ধু বুক কর্ণার ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নারের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী’র বিশেষ উপহার পেল লামার ৩হাজার ৬শত পরিবার  বান্দরবানে সুয়ালকে রাবার ড্যাম প্রকল্পে অনিয়মে বাধা দেয়ায় শ্রমিক ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ৯ মানছেনা প্রশাসনের জরিমানা ! অবিরাম চলছে আবাদি জমি ও পাহাড় কাটা ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ এক জনকে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি পুলিশ আলীকদমে ২’শ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ সহায়তা
লামায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভারী বর্ষণে বন্যার আশংকা

লামায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভারী বর্ষণে বন্যার আশংকা

????????????????????????????????????

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামাঃ
বিগত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লামা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বড় ধরনের বন্যার আশংকা করছে এলাকাবাসি। পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চল বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার মানুষ। অনেক ঘরবাড়ি এখন পানির নিচে। উপজেলার বেশ কয়েক জায়গায় পাহাড় ধস ও সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় সমগ্র দেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে গাছপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের লাইনে পড়ায় কয়েক স্থানে খুঁটি পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করছে লামা বিদ্যুৎ বিভাগ। নদী, খাল ও ঝিরি গুলোতে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে লামা পৌরসভার নয়া পাড়া, উপজেলা কোয়াটার, চেয়ারম্যান পাড়া, বাস স্টেশন, বাজার এলাকা, বড় নুনারবিল, লাইনঝিরি, শিলেরতুয়া, কলিঙ্গাবিল, রাজবাড়ি, কুড়ালিয়া টেক, লামামুখ ও ছোট নুনারবিল এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার লামা-রুপসীপাড়া সড়কের কাটা পাহাড় নামক স্থানে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পাওয়া মাত্র লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম ডাম্পার ও লেবার নিয়ে উপস্থিত হয়ে মাটি সরিয়ে আন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করেন। মেয়রের এমন সেবাধর্মীয় কাজ দেখে অনেকে ফেইসবুকে প্রশংসামূলক পোস্ট করেছেন।

এছাড়া রুপসীপাড়া, ফাইতং, আজিজনগর, ফাঁসিয়াখালী, গজালিয়া ইউনিয়নের অসংখ্য জায়গা পাহাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। খাল ও ঝিরির প্রচন্ড পানির স্রোতে ভেঙ্গে পড়েছে কয়েকটি ব্রিজ। আন্ত যোগাযোগের সড়ক গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার মানুষ। এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমাড়ি হতে বড়ছনখোলা হয়ে হাইদারনাশী সড়কের বড়ছনখোলাস্থ ব্রিজ ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক ওয়ার্ডের মানুষ।

লামা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাপান বড়–য়া জানান, গত কয়েকরাত হতে বন্যার আশংকা করে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নি¤œাঞ্চলে পানি উঠার কারণে বন্যার আশংকা করে মালামাল সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছে সব ব্যবসায়ীরা। এতে করে তাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাজারের প্রধান প্রধান কয়েকটি গলি ও সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লামার বন্যার সমস্যা নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন তিনি।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, বিচ্ছিন্ন সড়ক গুলো উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘোবে আমরা চেষ্টা করছি।

লামা বাজার পাড়ার বাসিন্দা মো. মাইন উদ্দিন, মো. আকবর ও চাহ্লাচিং মার্মা বলেন, নিম্নাঞ্চলে বাড়ি হওয়ায় ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি পানির নিচে। এ দুর্ভোগ লাঘোবে স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করছি আমরা।

লামা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় চুড়া ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আমরা কাজ করেছি। তাছাড়া যে কোন দুর্যোগের খবর পাওয়া মাত্র গিয়ে তা লাঘোবে কাজ করছি আমরা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ঝুকিঁপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখনো হাজার হাজার পরিবার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনুর রহমান বলেন, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সকল দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। আমাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুদ আছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, আমরা সচেষ্ট রয়েছি। যে কোন দূর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র সহায়তায় করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সহযোগি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আগত লোকজনের থাকা, খাওয়া ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো আমরা খেয়াল রাখছি। তাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত সিদ্দিকাকে দিয়ে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার ব্যবস্থা করেছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, শুষ্ক মৌসুমে মৃত প্রায় মাতামুহুরী নদী বর্ষা এলেই রুদ্রমুর্তি ধারণ করে। সাধারণ মানুষের বিপদের সময় আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করছি। জনদুর্ভোগ লাঘোবে আমরা আন্তরিক।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology