সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

লামায় বিক্রি হচ্ছেনা টিসিবি’র পণ্য; সুবিধাবঞ্চিত দুই লাখ মানুষ

লামায় বিক্রি হচ্ছেনা টিসিবি’র পণ্য; সুবিধাবঞ্চিত দুই লাখ মানুষ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি লামাঃ
“প্রয়োজন অনুসারে ভোক্তাদের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ ও আপদকালিন মজুদ গড়ে তোলার” উদ্দেশ্যে সরকার ১লা জানুয়ারী ১৯৭২ইং রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৬৮/১৯৭২ এর মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিষ্ঠা করেন। সারাদেশে রমজান উপলক্ষে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পাঁচটি পণ্য ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হলেও বান্দরবানের লামা উপজেলায় তার বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে।

টিসিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পরেও পণ্য উত্তোলন না করার বিষয়টি দুঃখজনক। নতুন কেউ ডিলার নিতে আগ্রহী হলে বর্তমান ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করে তাদের দেয়া হবে।

লামায় টিসিবির সকল ডিলার বরাদ্দ দেওয়া পণ্য উত্তোলন না করায় সরকারের দেয়া ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই উপজেলার প্রায় ২ লাখ সাধারণ মানুষ। টিসিবি’র পণ্যে লাভ হয় না, এমন অজুহাতে মালামাল উত্তোলন করেননি উপজেলার ডিলাররা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ওই পন্যসমূহ উর্ধ্বমূল্যে দোকান থেকে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোন ধরণের মনিটরিং না থাকায় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পণ্য উত্তোলন না করায় ডিলারশীপ বাতিলের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লামা। ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় দু‘লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে আশি ভাগ মানুষই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। এদিক চিন্তা করে রমজানের আগে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য ৬ মেট্রিক টন পন্য বরাদ্দ দেয় টিসিবি। পণ্যগুলো হচ্ছে ভোজ্য তেল, ছোলা, চিনি, ডাল ও খেজুর। এ পণ্য বিক্রির জন্য আগে থেকেই উপজেলার তিনজন ডিলারও নিযুক্ত রয়েছেন। কিন্তু টিসিবি পণ্যে লাভ হয় না; এমন অজুহাতে এবারে পন্য উত্তোলন করেনি ডিলাররা। অথচ ডিলার নিয়োগের শর্তে উল্লেখ আছে, একজন ডিলারকে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতেই হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের তদারকি না থাকায় ডিলাররা পন্য উত্তোলন করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

লামা পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, ফয়েজ উদ্দিন ও মো. ঈরাজ সহ আরো অনেকে বলেন, বিগত সময়ে রমজান মাসে টিসিবির এসব পণ্য শহরের বিভিন্ন স্থানের দোকানে বিক্রি করা হতো। মানুষ কম দামে পণ্য পায় বলে লাইন ধরে এসব পণ্য কিনত। কিন্তু এবার তা বিক্রি হচ্ছে না। অথচ তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য পেলে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকৃত মানুষের উপকার হতো। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন ধরণের তদারকী দেখা যাচ্ছেনা। ‘ডিলাররা পণ্য বিক্রি না করলে তাঁদের ডিলারশিপ বাতিল করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

দিপাখা এন্টার প্রাইজের মালিক (ডিলার) সঞ্জয় কুমার দাশ সাংবাদিককে জানায়, টিসিবির বিভাগীয় কার্যালয় চট্টগ্রামে। সেখান থেকে এসব পণ্য লামা উপজেলায় আনতে হয়। পণ্য উত্তোলন ও চট্টগ্রাম থেকে নিতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই টিসিবির পণ্য উত্তোলন করিনি। তাছাড়া কমিশন বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। এদিকে ডিলার মাধুবী এন্টারপ্রাইজের মালিক রুপন মনি সেন বলেন, এবার আমি টিসিবির কোন বরাদ্দপত্র পাইনি।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, এবারে ডিলাররা টিসিবি পণ্য বরাদ্দের কোন কপি জমা দেয়নি। তাই মনে হচ্ছে তারা টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেনা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Bandarban Pratidin.com
Design & Developed BY CHT Technology